পরগাছা : একটি চিঠি


হে প্রিয়ে,                                                             

আমারতো কোন দোষ ছিলো না। প্রকৃতির নিয়মেই হয়তো তোমার মাঝে আমার বেড়ে উঠা।তোমাতে  আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থেকে বাঁচার স্বপ্ন বুনেছি আমি। তোমার পাঁজরে পাঁজর মিলিয়ে তোমারই হৃদস্পন্দের সাথে সাথে ছন্দ মিলিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে শিখেছি। মনে মনে তোমারই মাঝে  নিজের এক স্বর্গরাজ্যের স্থাপনা আকতে শুরু করি। কিন্তু আমি কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি তুমি আমার অস্তিত্ব তোমার মাঝ থেকে এভাবে মুছে দিয়ে আমাকে ছুড়ে ফেলে দিবে। আমিতো তোমার কোন ক্ষতি করিনি। শুধু তোমাকে আকড়ে ধরেই বাঁচতে চেয়েছি। অঙ্কুরোদগম থেকে ধীরে ধীরে তোমার বুকে তোমারই গল্প শুনে শুনে বড় হয়েছি । মাঝ রাতে যখন শেয়ালের ডাক কিংবা বজ্রপাতের বিকট শব্দে ভয় পেতাম তখন তুমিইতো ভালোবাসার পরম মমতায় আমার মাঝে সাহস সঞ্চার করতে। তোমার ভালোবাসার পরশ পেয়ে ধীরে ধীরে তোমারই মাঝে সুখের নীড় গড়ার স্বপ্নে নীল আকাশে রঙিন ঘুরি উড়াতে শুরু করি। কিন্তু কেন তুমি আমাকে তোমার বুকে জেগে উঠার প্রথম প্রহরে বললে না ' জগৎ নিয়মে যেহেতু চক্ষু মেলিয়া আলো দেখেছিস কিন্তু সেই আলোতে কোন স্বপ্ন বুনিস না- কোন মিছে মায়ায় বাঁধনে নিজেকে জড়াস না ' কেন আমাকে তখনই তুমি ছুড়ে ফেলে দিলে না। এত এত স্বপ্ন, মায়া, প্রেম, ভালোবাসা, অাশা নিয়ে যখন তোমার মাঝে বড় হলাম তখন তোমার মনিব এসে সামাজিক সৌন্দর্যে বিঘ্ন ঘটার কারণে আমাকে তোমার বুক থেকে পেশাদারী কাঠুরিকে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে এনে তোমারি সামনে তাদের কুঠারি দিয়ে কি নির্মমভাবে আঘাত করে টেনে হিচড়ে তোমার মাঝ থেকে সরিয়ে ফেললো!  দেখলে?  সবাই যখন তোমার বুক থেকে আমাকে আলাদা করার দ্রুততম পন্থা অবলম্বন করছিলো, আরার আমাকে নিয়ে হাসি-তামাশার পাশাপাশি গালাগাল দিচ্ছিল। তখনও আমি তোমার চোখে চেয়ে সেই প্রথম প্রহর থেকে আজ অব্দি দিনগুলির কথা কল্পনা করছিলাম। তোমার আমার সুখ-দুঃখ ভাগাভাগির মুহূর্তগুলিকে বারবার কল্পনায় এনে ওদের সকল ঠাট্টা আর গালমন্দকে হাওযায় উড়িয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু তখনও তুমি ছিলে নির্বাক। আমার সারা শরীর যখন বর্ণহীন রক্তে রক্তাক্ত আর নয়ন দুটি কাঁদতে কাঁদতে পাথেরর ন্যায় শক্ত হয়ে পরেছিল তখনও কি তোমার হৃদয়ে আমার জন্য একটুও সহানুভূতি জন্মায় নি। আমিতো শুধু তোমার ভালোবাসা নিয়ে এই রঙিন পৃথিবীতে নিজের মত করে একটা ছোট্ট পৃথিবী তৈরি করতে চেয়েছি। কিন্তু তোমার উপরে অভিমান করে এত কিছু বলেই বা কি হবে! তোমার যে পায়ে শিকল মুখে তালা। জানিনা, হয়তো আমাকে পেয়ে তুমিও নতুন এক সঙ্গী  নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলে। কিন্তু মনিব নামের সে সকল প্রাণিদের নিয়ম আর বেড়াজালে তুমিও যে পরাধীন। তোমার উপর আমার বিন্দু মাত্র রাগ, ক্ষোভ কিংবা অভিমান নেই। তবে আমার একটা অনুরোধ রেখো, আর কেউ যদি ভুল ক্রমে তোমার বুকে আবারও নতুন করে বেড়ে উঠার পর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে  তাকে আর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ো না। শুরু থেকেই তার প্রতি রূঢ় কিংবা কর্কশ আরচন করো। তাহলে তোমায় ছেড়ে গেলেও সে আর আমার মত এতো দুঃখ পাবে না। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো তোমাকে না বুঝে অনেক কিছুই বলে ফেলেছি। মরিচিকাময় স্বপ্ন মোহে তোমারই মাঝে এতকাল রিচরণ করেছি। শুধু নিজের উপর দুঃখ হচ্ছে এইভেবে তখন কেন একটি বারের জন্যও মনে হয়নি  আমার কোথাও কোন অস্তিত্ব নেই, কোন স্বপ্ন নেই, আশা নেই, ভালোবাসা নেই, রাগ,ক্ষোভ, অভিমান নেই। কারণ আমি  অন্যের বুকে মিথ্যা স্বপ্নে বেড়ে ওঠা নিতান্তই এক পরগাছা। 

ইতি
পরগাছা








আখন্দ জাহিদ

(২০ এপ্রিল ২০২০)

Comments

Popular posts from this blog

পুরুষ নামক প্রাণি করি তোমায় ধর্ষণ

ভালোবাসা তুমি কোথায়

করোনা ভাইরাস

কবিতা - স্বপ্ন পক্ষী

লক্ষী আকা

তোর নয়নে রাখলে নয়ন হারিয়ে যাই দূর অজানায়